HomeFeaturedUncategorizedসন্তানদের কি বাবা-মাকে বহিষ্কার করা উচিত সোশাল মিডিয়া থেকে?
176 Views No Comment
সকল আপডেট ফেসবুকে পেতে আমাদের অফিশিয়াল ফ্যান পেজে লাইক দিন

সন্তানদের কি বাবা-মাকে বহিষ্কার করা উচিত সোশাল মিডিয়া থেকে?

গোটা বিশ্বে নতুন এক ট্রেন্ড দেখা
দিয়েছে বাবা-মায়ের মধ্যে। তারা
নিজেদের বাচ্চাদের একের পর এক ছবি
পোস্ট করছেন সোশাল মিডিয়ায়। এই
ট্রেন্ডকে বলা হচ্ছে ‘শেয়ারেন্টিং’।
আগের প্রজন্মের শিশুরা এমন অভিজ্ঞতা
লাভ করেনি। আধুনিক বাবা-মায়েদের
কল্যাণে শিশুরা বড় হওয়ার আগেই
ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে ফেসবুকসহ
বিভিন্ন সোশাল মিডিয়ায়। গোটা
শৈশব যেন বিজ্ঞাপনের মতো প্রচারিত
হচ্ছে। একে শিশুদের জন্য ক্ষতিকর বলেই
মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
ব্রিটেনে সোশাল মিডিয়ায় বাবা-
মায়েরা গড়ে শিশুর ১৪৯৮টি ছবি পোস্ট
করেছেন তাদের ৫ বছর পূর্ণ না হতেই।
নমিনেট নামের এক কম্পানি জরিপটি
করেছে।
গর্বিত বাবা-মায়ের আদরের শিশুর ছবি
পোস্ট করার নেশায় পড়ে গেছেন। কিন্তু
এ বিষয়টি পরবর্তীতে তাদের পছন্দ নাও
হতে পারে। অবশ্য এত বড় তারা এখনো
হয়ে ওঠেনি যে তাদের কিছু বলার
থাকবে।
নিউ ক্যাসলের ১৬ বছর বয়সী লুসি
জানান, আমার বয়স যখন ১২ বা ১৩, তখন
ফেসবুকে আমার এত বেশি ছবি দেখে
সত্যিই অস্বস্তিতে পড়ে যাই। আমার
দারুণ লজ্জা লাগত। সাত বছর বয়স থেকে
তার প্রচুর ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন
তার বাবা। আমি তাকে বলেছিলাম
ছবিগুলো মুছে ফেলার কথা। কিন্তু তিনি
বুঝতে পারছিলেন না কেন তা বলছি।
তখন তাকে আমি বলেছিলাম, তুমি কি
চাও আমার এসব ছবি অন্যরা দেখুক। আমি
চাই না।
অতীতকে ডি-ট্যাগড করা : আবার অনেক
শিশু কিছুটা বড় হয়েও এসব ছবি সোশাল
মিডিয়ায় দেখতে পছন্দ করে। কিন্তু
আরো বড় হওয়ার পর তারা নিশ্চিত নন
এগুলো ঠিক হয়েছে কি না? ইস্ট লন্ডনের
ডানা হার্লের বয়স এখন ২০। তার ১১ বছর
বয়স থেকে অনেক ছবি আছে অনলাইনে।
তখন বেশ ভালো লাগত। কিন্তু এখন তিনি
এ নিয়ে বাজে অবস্থায় পড়ে গেছেন। পরে
তিনি অতীতের বেশির ভাগ ছবি একে
একে ডি-ট্যাগড করেছেন। অর্থাৎ, তার
প্রোফাইলে এগুলো আর দেখাবে না।
কিন্তু সাইটে থেকেই যাবে।
অনেক বাবা-মা বিষয়টি এখনো বুঝে
উঠতে পারেননি। অনেকে আবার বাচ্চার
ভিডিও তুলে দেন। তারা এমন এক উপায়ে
শিশুটির পরিচয় তুলে ধরছেন, যেভাবে
করা উচিত নয়। এমনটাই মনে করেন
সোশাল মিডিয়া স্পেশালিস্ট ড.
আর্থার ক্যাসিডি। বলেন, আসলে
উল্টোটা ঘটে। শিশুদের পরিচয় প্রকাশ
পেয়ে যায়। শিশু অপহরণ বা
নির্যাতনকারীদের কাছে এসব তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তা ছাড়া শিশুরা বড়
হয়ে এ নিয়ে নানা লজ্জাষ্কর
পরিস্থিতিতে পড়ে যান।
দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন : লুসি এখানে
একটা উদাহরণমাত্র। তার মতে, আমি কে
বা কি তার এত জানান দেওয়ার দরকার
নেই। এগুলো পরে বাজে অবস্থা তৈরি
করে। আমার এমনিতেই অনেক বন্ধু নেই।
অথচ আমাকে সবাই চেনে ও জানে।
আমার জীবনের কোনো গোপনীয়তাই
রাখা হয়নি।
মতের ভিন্নতাও রয়েছে। দক্ষিণ লন্ডনের
২১ বছর বয়সী ফ্রান্সেকা ইভালদির মতে,
এসব ছবি গোটা বিশ্বের মানুষের সঙ্গে
যোগাযোগ এবং নিজের স্মৃতি শেয়ার
করার কাজটাকে সহজ করে দিয়েছে।
আমাদের পরিবারের ছবি গোটা বিশ্বে
ঘুরে বেড়াচ্ছে। স্মৃতি ধরে রাখতে এর
চেয়ে চমৎকার উপায় আর নেই। তবে এ
বিষয়ে কিভাবে দেখবেন তা নির্ভর করে
যার যার দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। কেউ একে
বিরক্তিকর বলে মনে করাটা বিশ্বাসই হয়
না।
বাবা-মায়েদের জন্য পরামর্শমূলক
ওয়েবসাইট মামসেট এর প্রতিষ্ঠাতা
জাস্টিন রবার্টস জানান, বাবা-মায়ের
শিশুদের ছবি ও তথ্য অনলাইনে তুলে
দেওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সাবধান। আসলে
এ বিষয় নিয়ে তেমন আলোচনাও হয়নি।
তবে খারাপ বিষয়গুলো নিয়ে বড়দেরও
ভাবা উচিত।
ডিজিটাল রেকর্ড : আসলে কোনো
ছবিগুলো অনলাইনে দেওয়া ক্ষতিকর হবে
না সে বিষয়টি বোঝার সহজাত প্রবণতা
কাজ করে বাবা-মায়ের মধ্যে। তবে
টিনএজাররা বিষয়টি কিভাবে দেখেন
সে বিষয়ে আমাদের ধারণা আরো স্পষ্ট
হওয়া দরকার। বাচ্চাকালে তারা এগুলো
বুঝতে পারে না। বাবা-মায়েরাও উৎসাহ
পান। কিন্তু টিনএজরা এ নিয়ে
আপত্তিকর অবস্থার শিকার হন। তাই
তাদের অভিযোগগুলো গুরুতর।
তাই এখন অনেকে এ নিয়ে ভাবতে শুরু
করেছেন। আগামী বছরের মার্চে প্রথম
সন্তান আশা করছেন নিউক্যাসলের
কাসিয়া কুরোওয়াস্কা। তারা ঠিক
করেছেন, শিশুটি বড় হয়ে সোশাল
মিডিয়া বিষয়ে নিজেই সিদ্ধান্ত
নেবে। তারা বিষয়টি না বুঝে ছবি
প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকবেন।
তাই শিশুদের গোটা জীবন ডিজিটালি
রেকর্ড করে রাখার আগে ভাবতে হবে,
এমনটা তারা চাইবে কিনা। এটা আসলে
তাদের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়াই
ভালো বলে মনে করেন জাস্টিন। তারা
এমন এক প্রজন্ম যেখানে নিজের পছন্দে
চলার অধিকার তাদের স্বচ্ছন্দে দেওয়া
হয়।
তবে কিছু পরিস্থিতি তো মেনে নিতেই
হবে। বাড়ির পার্টিতে আত্মীয়রা এসে
একসঙ্গে ছবি তুলবেন। সেগুলো অনলাইনে
যেতেই পারে। আবার সন্তানের বন্ধুদের
অনলাইনে এতটা প্রকাশ না থাকলে
তাকেও অনলাইন থেকে দূরে রাখাই
ভালো। সূত্র : বিবিসি

1 year ago (November 4, 2016) FavoriteLoadingAdd to favorites

About Author (185) 177 Views

author

This user may not interusted to share anything with others

Leave a Reply

You must be Logged in to post comment.

Related Posts


All Rights Reserved
© 2010 - 2017 Trick-Bd.CoM