Homeinternational newsমিয়ানমার সেনাবাহিনীর পক্ষে ভারতের নগ্নভূমিকা
62 Views No Comment
সকল আপডেট ফেসবুকে পেতে আমাদের অফিশিয়াল ফ্যান পেজে লাইক দিন

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পক্ষে ভারতের নগ্নভূমিকা

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা,
জাতিগত নির্মূল অভিযান ও জোর করে
বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার ব্যাপারে
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অবস্থানকে
সমর্থন করছে বাংলাদেশের কথিত বন্ধুদেশ
ভারত। রাখাইনে জাতিগত নির্মূল অভিযান
শুরু হওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী
নরেন্দ্র মোদি মিয়ানমার সফর করে
দেশটির অবস্থানে পূর্ণ সমর্থনই শুধু দেননি,
পরবর্তী সময়েও ধারাবাহিকভাবে
মিয়ানমারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন।
এমনকি মিয়ানমারের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ দেশ
হিসেবে পরিচিত চীনের চেয়ে মিয়ানমার
সেনাবাহিনীর নীতির প্রতি ভারতের
সমর্থন আরো নগ্নভাবে প্রকাশ পাচ্ছে।
এর সর্বশেষ উদাহরণ হচ্ছে ভারতে আশ্রয়
নেয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের
বাংলাদেশে পুশইন করছে ভারতের
সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি
ফোর্স (বিএসএফ)। গত তিন সপ্তাহে অন্তত
৫৭ রোহিঙ্গা সদস্যকে সীমান্ত দিয়ে
সাতক্ষীরায় পুশইন করা হয়েছে। গত
শুক্রবার সাতক্ষীরার হিজলদী সীমান্ত
দিয়ে ১৮ রোহিঙ্গা সদস্যকে পুশইন করা হয়।
বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া রোহিঙ্গা
সদস্যদের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু ও নারী।
গণমাধ্যমে খবর এসেছে, আরো বহু
রোহিঙ্গা সদস্য সাতক্ষীরা সীমান্ত
অতিক্রম করার অপেক্ষায় রয়েছে।
তাদেরও সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে
পুশইন করতে সচেষ্ট রয়েছে বিএসএফ।
রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। ভারত
সরকার যদি তাদের ফেরত পাঠাতে চায়,
তাহলে মিয়ানমার সরকারের সাথে
আলোচনা করে পূর্ণ নাগরিক অধিকার
নিশ্চিত করে তাদের আবাসস্থলে ফেরত
পাঠাতে পারে। কিন্তু তাদেরকে
বাংলাদেশে পাঠানোর মাধ্যমে
রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নাগরিক বলে
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দাবিকে যে
ভারত সমর্থন দিচ্ছে, এটি তার প্রমাণ।
বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার
ভারতের সব ধরনের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক
ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমর্থন দেয়ার
পরও দেশটি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে
প্রকাশ্য অবস্থান নিয়েছে। শুধু তা-ই নয়,
জাতিসঙ্ঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যখন
রোহিঙ্গাদের জাতিগত নির্মূল
অভিযানের বিরুদ্ধে মিয়ানমার
সেনাবাহিনীর বিচারের দাবিতে
সোচ্চার হয়ে উঠছে, তখন ভারতের এই
অবস্থান শুধু দুর্ভাগ্যজনক নয়Ñ
নিপীড়নকারীদের পক্ষে অবস্থান নেয়ার
শামিল।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নির্যাতিত
রোহিঙ্গারা বিভিন্ন সময় সীমান্ত পাড়ি
দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। প্রায় ৪০ হাজার
রোহিঙ্গা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে
অবস্থান করছে। এদের মধ্যে ১৬ হাজার
রোহিঙ্গা জাতিসঙ্ঘের নথিভুক্ত
শরণার্থী। সেখানে তারা নানা
প্রতিকূলতা ও চরম দারিদ্র্যের মধ্যেই
বসবাস করছেন। এখন ভারত সরকার তাদের
ফেরত পাঠাতে চায়। এ নিয়ে ভারতের উচ্চ
আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন
আছে। এমন পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের
বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো অত্যন্ত
ন্যক্কারজনক ও আন্তর্জাতিক আইনের
লঙ্ঘন। আমরা মনে করি, বাংলাদেশ
সরকারের উচিত ভারতের এই আচরণের
প্রতিবাদ করা। রোহিঙ্গাদের উচ্ছেদে
মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে সমর্থন
জানানোর জন্য রোহিঙ্গাদের দায়
এড়িয়ে যেতে পারে না ভারত।
কফি আনান কমিশনের সুপারিশ দ্রুত
বাস্তবায়নের তাগিদ
ইমরান আনসারী জাতিসঙ্ঘ সদর দফতর
থেকে
রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে শুক্রবার
আবারো বৈঠকে বসে জাতিসঙ্ঘ
নিরাপত্তা পরিষদ। রোহিঙ্গা পরিস্থিতি
নিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহের ব্যবধানে
নিরাপত্তা পরিষদের এটি দ্বিতীয় দফা
বৈঠক। নিরাপত্তা পরিষদের আরিয়া
ফর্মুলা মিটিং হিসেবে এই বৈঠকে
নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য ছাড়াও অংশ
নেয় বাংলাদেশ, মিয়ানমার,
ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড।
গুরুত্বপূর্ণ এ বৈঠকটির আয়োজন করে
যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স। সভায় বক্তব্য দেন
অ্যাডভাইজরি কমিটি অন রাখাইন
স্টেটের চেয়ারম্যান জাতিসঙ্ঘের সাবেক
মহাসচিব নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী
কফি আনান।
বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরেন
জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী
প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন।
কফি আনান তার বক্তব্যে সম্প্রতি
মিয়ানমার সরকারের কাছে পেশকৃত
‘অ্যাডভাইজরি কমিটি অন রাখাইন স্টেট’-
এর রিপোর্টের বিভিন্ন দিক নিয়ে
আলোকপাত করেন। রাখাইন প্রদেশের
জনগণের স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা,
সমৃদ্ধি, উন্নয়ন ও চলমান সঙ্কট সমাধানের
লক্ষ্যে মিয়ানমার সরকার তার কমিশন
প্রণীত রিপোর্টের সুপারিশমালা আশু
বাস্তবায়ন করবে মর্মে তিনি প্রত্যাশা
ব্যক্ত করেন। কফি আনান রোহিঙ্গাদের
নাগরিকত্ব বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের
১৯৮২ সালে প্রণীত নাগরিকত্ব আইন
আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সংশোধনের
বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন।
রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের মর্যাদা ও
নিরাপত্তার সাথে নিজ ভূমিতে
প্রত্যাবর্তন এবং মানবিক সহায়তা ও
মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে কফি
আনান তার রিপোর্টে উল্লেখ করেন।
তিনি বাংলাদেশের সাথে সীমান্ত
নিরাপত্তা ও দ্বিপক্ষীয় ক্ষেত্রে
সহযোগিতা রক্ষা করার প্রতি জোর দিয়ে
বলেন, এই সুসম্পর্ক ও সহযোগিতার মাধ্যমে
উভয় দেশই লাভবান হবে। কফি আনান
রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে মিয়ানমারের
আন্তঃসম্প্রদায়ের মধ্যে সংলাপ ও
সমঝোতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন ‘ভয়াবহ রোহিঙ্গা সমস্যা
কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না, যতক্ষণ না
পর্যন্ত রাখাইন প্রদেশের জনগণের
কল্যাণে মিয়ানমার সরকার এবং রাখাইন
জনগোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়
ঐকমত্য হয়ে কাজ করে।’
বৈঠক শেষে কফি আনান জাতিসঙ্ঘ
সংবাদদাতাদের এক ব্রিফিংয়ে জানান,
আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। এ বিষয়ে সবাই
একমত হয়েছেন যে, সঙ্কটের দ্রুত সমাধানে
আমাদের যেসব কাজ করতে হবে তার মধ্যে
উল্লেখ্যযোগ্য হচ্ছেÑ সহিংসতা বন্ধ করতে
হবে, যাদের মানবিক সাহায্য প্রয়োজন
তাদের কাছে মানবিক সাহায্য পৌঁছাতে
হবে এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া
উদ্বাস্তুদের সম্মানজনকভাবে দেশে
ফেরার ব্যবস্থা করতে হবে। এ সময় তিনি
জোর দিয়ে বলেন, তবে এসব কাজ খুব সহজ
নয়।
নিরাপত্তা পরিষদের সব সদস্যই এ সঙ্কট
সমাধানের পক্ষে বক্তব্য দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি এটিকে মানবিক
বিপর্যয় আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এনাফ ইজ
এনাফ। আমরা এটি আর গ্রহণ করতে পারছি
না। আমরা মিয়ানমারের
নিরাপত্তাবাহিনীর এই হীন কাজের
নিন্দা জানাই।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি
অনতিবিলম্বে মানবিক সহযোগিতা
প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি, সহিংসতা বন্ধ,
রাখাইনে জাতিসঙ্ঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং
মিশনের পূর্ণ প্রবেশাধিকার, রোহিঙ্গা
শরণার্থীদের নিরাপদ ও নিশ্চয়তার সাথে
স্বদেশে প্রত্যাবর্তনসহ কফি আনান
কমিশনের রিপোর্টের পূর্ণ বাস্তবায়নের
ওপর জোর দেন। প্রায় একই ভাষায় কথা
বলেন নিরাপত্তা পরিষদের অন্যান্য সদস্য
রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা। তারা বাস্তুচ্যুত ও
অসহায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মানবিক
সাহায্য প্রদান করায় বাংলাদেশ সরকার ও
বাংলাদেশের জনগণের ভূয়সী প্রশংসা
করেন।
জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী
প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন
বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো মিয়ানমার
সরকারের দেয়া বিবৃতি আর রাখাইন
প্রদেশের প্রকৃত পরিস্থিতির মধ্যে বিস্তর
ব্যবধান রয়েছে। ২৫ আগস্টের পর থেকে
শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পাঁচ লাখ ৩৬ হাজার
রোহিঙ্গা মিয়ানমার সীমান্ত পেরিয়ে
বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। সব
মিলিয়ে উদ্বাস্তুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯
লাখে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত মাসে
জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে প্রদত্ত ভাষণে
মিয়ানমার পরিস্থিতির সমাধানে যে
পাঁচটি পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছেন
রাষ্ট্রদূত তার বক্তৃতায় তা তুলে ধরে বলেন,
‘সহিংসতা ও একটি জাতিকে নির্মূলের
প্রক্রিয়া বন্ধ, মিয়ানমারে জাতিসঙ্ঘের
ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন প্রেরণ,
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সেফ জোন তৈরি,
জোরপূর্বক উচ্ছেদকৃত মানুষকে নিজ
ভূমিতে স্থায়ী প্রত্যাবর্তন এবং কফি
আনান কমিশনের সুপারিশের পূর্ণ
বাস্তবায়ন করতে হবে।’
রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, ‘মিয়ানমারের
সামরিক জান্তার উপর্যুপরি উসকানি ও
বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন সত্ত্বেও
বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সহিষ্ণুতা প্রদর্শন
এবং মিয়ানমারের সাথে সুসম্পর্ক বজায়
রেখেছে। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে জয়েন্ট
ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত হলেও বেশ
কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আরো বিশদ
আলোচনার প্রয়োজন। এ ধরনের কয়েকটি
বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অতীত
অভিজ্ঞতার আলোকে আন্তর্জাতিক মহল
বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের
অংশগ্রহণ ও তদারকি ছাড়া মিয়ানমারের
সাথে একটি দীর্ঘমেয়াদি এবং অর্থপূর্ণ
প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল সমস্যা সমাধান
করা কঠিন হবে।’
এ ছাড়া বৈঠকে অফিস অব দ্য হাইকমিশন
অব হিউম্যান রাইটস্্, অফিস ফর দ্য কো-
অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান
অ্যাফেয়ার্স, ইউএনএইচসিআর-এর
প্রতিনিধি, ওআইসি ও ইউরোপীয়
ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ আগস্ট থেকে ১৩
সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদ
মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে তিনবার
আলোচনায় বসে।

1 month ago (October 15, 2017) FavoriteLoadingAdd to favorites

About Author (24) 63 Views

administrator

This user may not interusted to share anything with others

Leave a Reply

You must be Logged in to post comment.

Related Posts


All Rights Reserved
© 2010 - 2017 Trick-Bd.CoM