Homeinternational newsগণভোট তো হলো, এবার কী করবে কুর্দিরা?
102 Views 1 Comment
সকল আপডেট ফেসবুকে পেতে আমাদের অফিশিয়াল ফ্যান পেজে লাইক দিন

গণভোট তো হলো, এবার কী করবে কুর্দিরা?

https://youtu.be/fjs-4CQyFdY ইরাকে স্বাধীনতার প্রশ্নে কুর্দিদের
গণভোট ছিল বরং সহজ কাজ। গণভোটে ৯৩
শতাংশ মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে ভোট
দিয়েছে। কিন্তু এরপরের কর্মপন্থা কী
হবে? সেটাই হলো কঠিন পর্ব। গণভোট
অনুষ্ঠিত হয়েছে ইরাকি কুর্দিস্তানের তিন
প্রদেশ এবং জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস’র হাত
থেকে দখলে নেওয়া ভূখ-ে। কুর্দি
স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য এই গণভোট
বিশাল সাফল্য। স্বার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের
মিশনে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে
বিবেচনা করা হচ্ছে এই গণভোটকে। কিন্তু
এর ফলের আইনগত বাধ্যতাবাধকতা নেই।
কুর্দি ভূখ-ের মর্যাদার প্রশ্নে কুর্দিদের
সঙ্গে সমঝোতা আলোচনার পক্ষে ছিলেন
ইরাকের যেসব নেতা, তারাও এই যুক্তিতে
এই গণভোটকে প্রত্যাখ্যান করছেন যে, এটি
অসাংবিধানিক, বিভেদসৃষ্টিকারী এবং
আয়োজিত হয়েছে একতরফাভাবে। ২৮শে
সেপ্টেম্বর ইরাক সরকার আন্তর্জাতিক
এয়ারলাইনগুলোর জন্য ইরবিল বিমানবন্দর
ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। ইরাকের
প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোও বলছে, কুর্দিদের
যেকোন একতরফা উদ্যোগ বানচাল করে
দেওয়া হবে। ইরান কুর্দি ভূখ-ে বিমান
চলাচল থামিয়ে দিয়েছে। তুরস্ক
স্থলবেষ্টিত তুর্কিস্তানের সঙ্গে
নিজেদের একটি ক্রসিং বন্ধ করে
দিয়েছে। তুর্কিস্তান তাদের প্রয়োজনের
বড় অংশ মেটায় আমদানির মাধ্যমে।
অপরদিকে কুর্দি স্বাধীনতার দরুণ আইএস
জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামগ্রিক মৈত্রী
বাধাগ্রস্থ হতে পারে আশঙ্কায় পশ্চিমা
দেশগুলো কুর্দিদের পক্ষে অবস্থান নিতে
তাড়াহুড়ো করছে না।
মোট চারটি দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন
৩ কোটি কুর্দি। প্রায় ১৪০ বছর ধরে তারা
স্বাধীনতার দাবিতে লড়ছে। ১৮৮০ সালে
ধর্মীয় ও উপজাতি প্রধান শেখ উবায়দুল্লাহ
আল-নাহরি কুর্দিশ লিগ নামে একটি
উপজাতি গ্রুপের বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেন।
তখন তারা ছিলেন তৎকালীন অটোম্যান
(উসমানীয়) ও পারস্য সাম্রাজের মধ্যবর্তী
সীমান্ত এলাকায়। ১৯২৫ সালে, উসমানীয়
সাম্রাজ্য ধ্বসে পড়লে সৃষ্টি হয়
গণপ্রজাতন্ত্রী তুরস্ক। তখন শেখ সাঈদ
নামে আরেক নেতার নেতৃত্বে কুর্দিরা
গণপ্রজাতন্ত্রী তুরস্কের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ
করে। ১৯৪৬ সালে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয়
ইরানে স্বাধীন কুর্দি রাষ্ট্র মাহাবাদ-এর
ঘোষণা দেন মুস্তাফা বারজানি। এরপর
তিনি ও তার ছেলে মাসুদ বারজানি, যিনি
এখন ইরাকের কুর্দি ছিটমহলের
প্রেসিডেন্ট, তারা অধিকতর ক্ষমতার
দাবিতে ইরাকের সাবেক শাসক সাদ্দাম
হোসেনের বিরুদ্ধে বারবার বিরোধে
জড়িয়েছিলেন। কিন্তু কোনবারই তাদের
রাষ্ট্র টেকেনি। বৈশ্বিক ক্ষমতাধর
দেশগুলোর স্বীকৃতি না দেওয়া এবং আরব,
তুর্কি ও পারস্য বাহিনীর সামরিক আক্রমণে
প্রতিবারই মিইয়ে গেছে কুর্দি স্বাধীনতার
আকাঙ্খা।
আইএস’র নিজস্ব স্টাইলের খিলাফতও
বিলীন হয়ে গেছে। তাই প্রশ্ন উঠছে
কুর্দিরা এবার কী করবে? পূর্বের অবস্থার
প্রত্যাবর্তন ঠেকাতে বারজানি খুবই সক্রিয়
ছিলেন। এখন যে তিনি স্বাধীনতা
প্রাপ্তির জন্য সচেষ্টা হয়ে উঠেছেন, তা
যতটা জনগণের প্রয়োজনে, ততটাই তার
নিজের দরকারে। নভেম্বরে পার্লামেন্ট ও
প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে
কুর্দিস্তানে। ফলে নিজের রাজনৈতিক
ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত বারজানি। তিনি
ইতিমধ্যে ক্ষমতায় থাকার সর্বোচ্চ মেয়াদ
পূরণ করে ফেলেছেন। তার কর্মকর্তারা এখন
বলছেন, গণভোট নিয়ে এই উত্তাল
পরিস্থিতিতে পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্ট
নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরাকেই সবচেয়ে বেশি
স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে কুর্দিরা। কিন্তু
তাদের ঘরোয়া অর্থনীতি ক্রমেই পড়তির
দিকে। বারজানি কিরকুক ও সেখানকার
তেল সম্পদ করায়ত্ত করেছেন। কিন্তু
সেখানকার সরকারী কর্মকর্তারা ইরাকের
বাকি অংশের চেয়ে অর্ধেক বেতন পান।
নিরাপত্তা বাহিনীতে বাধ্যতামূলক
যোগদান করেছে অনেক কৃষক, ফলে দেশটির
কৃষি খাতের অবস্থা খারাপ। আইএস
বিরোধী যুদ্ধের সময় লাখো ইরাকি সুন্নি
আরব কুর্দিস্তানে নিরাপদ আশ্রয়ে
ছিলেন। তারা এখন নিজ বাড়িতে ফিরছেন।
পরিস্থিতি এখন আরও খারাপের দিকে
যেতে পারে। কুর্দিস্তানের একমাত্র তেল
পাইপলাইন বন্ধ করে দিতে পারে তুরস্ক।
ফলে এই অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি বন্ধ
হয়ে যাবে। পাশাপাশি কুর্দিস্তানে থাকা
১৩০০ তুর্কি কোম্পানিকে দেশে ফিরে
আসার নির্দেশ দিতে পারে সরকার। অনেক
অভিবাসীরা আশঙ্কা করছেন, ইরাক
আকাশসীমা বন্ধ করে দিলে তারা
কুর্দিস্তানের ভেতর আটকা পড়বেন।
তাই একতরফাভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা
দিলে কুর্দিস্তান বনে যেতে পারে
একদলীয় স্বল্পমেয়াদী রাষ্ট্র; কোনো
গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র নয়। তুরস্ক ও
ইরান কুর্দি স্বাধীনতার যেকোনো
পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগ করার হুমকি
দিয়েছে। দেশ দু’টির আশঙ্কা, তাদের
নিজেদের বহুজাতীয় রাজ্যগুলোও এই নজির
অনুসরণ করতে পারে। অবশ্য ইরান-বিরোধী
বড় শক্তির পতন হতে পারে আশঙ্কায়
ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলো হয়তো
কুর্দিদের সামরিক সহায়তা দেবে।
কৌশলগত এই কুর্দি ভূখ-কে টিকিয়ে রাখতে
শেষ পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে পারে
আমেরিকানরাও। এই ভূখ-কে ১৯৯১ সাল
থেকে রক্ষা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু
ইরানের আহবানে সাড়া দিয়ে, ইরাক ও
দেশটির রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত
শিয়া মিলিশিয়ারা দখলে নিতে পারে
অন্য অংশ। এপ্রিলেই নির্বাচন ইরাকে।
ফলে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল
আবাদি কিরকুকের তেলখনির দখল নিতে
যুদ্ধ শুরু করতে পারেন। তার বিরুদ্ধে
অভিযোগ ছিল, আইএস’কে হটাতে গিয়ে
তিনি অনেক ভূখ- কুর্দিদের হাতে দিয়ে
দিয়েছেন। যুদ্ধ শুরু করলে এই অভিযোগ
থেকেও রেহাই পাবেন আবাদি।
আইএস বিরোধী দীর্ঘ লড়াই শেষে
গোত্রভিত্তিক মতপার্থক্য কমিয়ে একটু
শান্ত হওয়ার পথে ছিল মধ্যপ্রাচ্য। কিন্তু
আবারও জাতিগত দ্বন্দ্ব প্রকট হতে যাচ্ছে।
আইএস’র বিরুদ্ধে অকথিত জোটের অংশ
হিসেবে আমেরিকা, ইরান, তাদের স্থানীয়
মিত্র কুর্দি ও ইরাকি আরবরা ঐক্যবদ্ধ
হয়েছিল। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টিতে দেখা
যাচ্ছে, সেই পরিস্থিতির অবসান ঘটতে
যাচ্ছে।
(লন্ডনের দ্য ইকোনমিস্ট-এ প্রকাশিত
‘হোয়্যাট নেক্সট ফর কুর্দিস্তান’ শীর্ষক
বিশ্লেষণী নিবন্ধের অনুবাদ।)

2 months ago (October 5, 2017) FavoriteLoadingAdd to favorites

About Author (24) 103 Views

administrator

This user may not interusted to share anything with others

1 responses to “গণভোট তো হলো, এবার কী করবে কুর্দিরা?”

Leave a Reply

You must be Logged in to post comment.

Related Posts


All Rights Reserved
© 2010 - 2017 Trick-Bd.CoM