এনার্জি বাল্ব ব্যবহার করছেন? নিজের বিপদ নিজেই ডেকে নিয়ে আসছেন | Trick-Bd.CoM
HomeFeaturedএনার্জি বাল্ব ব্যবহার করছেন? নিজের বিপদ নিজেই ডেকে নিয়ে আসছেন

3 weeks ago (November 25, 2017) 25 Views

এনার্জি বাল্ব ব্যবহার করছেন? নিজের বিপদ নিজেই ডেকে নিয়ে আসছেন

Category: Featured Tags: , by

এনার্জি বাল্ব – রাতের বেলা
পৃথিবীতে আর আগের মত অন্ধকার
নেমে আসে না। নতুন একটি গবেষণায়
দেখা গেছে, পৃথিবীর রাত্রি এখন
আগের চেয়ে অনেক উজ্জ্বল।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এলইডি লাইট
(বাংলাদেশে এনার্জি বাল্ব নামে
পরিচিত) ব্যবহার করার কারণে
এমনটি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন
বিজ্ঞানীরা। তবে, অন্ধকার দূর
হচ্ছে শুনতে ভাল লাগলেও,
বিজ্ঞানীরা বলছেন পৃথিবীর
বাসিন্দাদের জন্য এটি স্বাভাবিক
অবস্থা নয়।
গবেষকরা বলছেন, রাতে প্রচুর
পরিমাণে এলইডি লাইট জ্বালানোর
ফলে মানুষের ঘুম কমে যাচ্ছে। এর
ফলে তৈরি হচ্ছে নানা রকমের
শারীরিক সমস্যা।
এটি আমাদের চারপাশে থাকা
বিভিন্ন প্রাণীরও ক্ষতি করছে।
তারাও ওই কৃত্রিম আলোর সঙ্গে
নিজেদের মানিয়ে নিতে পারছে
না। ক্ষতিটা বেশি হচ্ছে নীল রংয়ের
এলইডি আলোয়।
‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ নামের
একটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান
জার্নালে গত বুধবার গবেষণাপত্রটি
প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা
হয়েছে, ২০১২ থেকে ২০১৬- এই ৫ বছরে
কৃত্রিম আলো বিশ্বের দিন-রাতের
মধ্যে পার্থক্য মুছে দিয়েছে।
ওই সময়ে ভূপৃষ্ঠের কৃত্রিমভাবে
আলোকিত এলাকা প্রতি বছরে
বেড়েছে ২.২ শতাংশ হারে। ঘুটঘুটে
অন্ধকার রাতের সংখ্যা পৃথিবীতে
যথেষ্টই কমে গেছে।
মহাকাশে থাকা বিভিন্ন উপগ্রহ
থেকে সর্বাধুনিক ক্যামেরায় তোলা
ছবি বিশ্লেষণ করেই এই সিদ্ধান্তে
পৌঁছেছেন গবেষকরা।
জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর
জিওসায়েন্সের অধ্যাপক
ক্রিস্টোফার কাইবা বলেছেন,
‘পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকার রাতগুলো
আগের চেয়ে অনেক অনেক বেশি
আলোকিত হয়ে গেছে। অনেক বেশি
ঝকঝকে হয়ে পড়েছে।
তিনি জানান, আলো ঝলমলে রাতের
সংখ্যা বেশি বেড়েছে এশিয়া ও
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে।
দাবানলের কারণে তা অবশ্য কিছুটা
কমেছে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায়।
তবে গবেষণাপত্রে যে চিত্রটি উঠে
এসছে, পরিস্থিতি আসলে তার
চেয়েও বেশি খারাপ বলে আশঙ্কা
করা হচ্ছে। কারণ, যার থেকে
আমাদের ক্ষতি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি,
সেই এলইডির নীল আলোর
তরঙ্গদৈর্ঘ্য মহাকাশে থাকা
উপগ্রহগুলো থেকে মাপা সম্ভব হয়নি।
কারণ, উপগ্রহগুলোতে প্রয়োজনীয়
যন্ত্র ছিল না। বিজ্ঞানীরা বলছেন,
যদি এলইডির নীল আলোও মাপা
যেত, তাহলে দেখা যেত রাতগুলো
আরও বেশি আলোকিত হয়ে গেছে।
যত দিন যাচ্ছে, ততই ঘরের ভিতরে ও
বাইরে এলইডি আলোর ব্যবহার
বাড়ছে। টিউবলাইট বা অন্যান্য লাইট
যতটা আলো দেয়, অনেক কম শক্তি
ব্যবহার করে এলইডি লাইটও ততটাই
আলোকিত করে।
দেখা গেছে, ১০০ ওয়াটের টিউবলাইট
যতটা আলো দেয়, মাত্র ২০ ওয়াটের
এলইডি বাল্ব আলো দেয় ততটাই।
ফলে বিদ্যুৎশক্তির ব্যবহার কমছে ৮০
শতাংশ।
এলইডি লাইটগুলো টেকেও অনেক
দিন। বিদ্যুতের খরচ কমাতে তাই
মানুষ কম ওয়াটের এলইডি লাইট বেশি
কিনছেন ও ব্যবহার করছেন।
বিদ্যুৎ খরচের ভয়ে আগে যারা রাতে
লাইট জ্বালানোর আগে দু’বার
ভাবতেন, সস্তা হয়ে যাচ্ছে বলে
তারাও এখন যত্রতত্র এলইডি আলো
ব্যবহার করছেন। ফলে, অনেক বেশি
পরিমাণে এলইডি আলোয় ভরে উঠছে
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত।
নীল রংয়ের এলইডি আলো মানুষের
বেশি পছন্দের হলেও তা ঘুম কমিয়ে
দিচ্ছে আরও বেশি। এ ব্যাপারে গত
বছর আমেরিকান মেডিক্যাল
অ্যাসোসিয়েশন একটি সতর্ক বার্তা
জারি করেছিল। তারা নীল রংয়ের
এলইডি আলোর ব্যবহার কমানোর
পরামর্শ দিয়েছিল।
গবেষকরা বলছেন, এমন একদিন
আসবে, যখন ধনী দেশগুলোর মানুষ
রাতের আকাশকে আরও বেশি
অন্ধকার দেখতে চাইবেন। ঘরেও
রাখতে চাইবেন জমাট অন্ধকার।

About 17

author

This user may not interusted to share anything with others

Related Posts

Leave a Reply

You must be Logged in to post comment.