Homeব্রেকিং নিউজরোহিঙ্গা সংকটে মধ্যস্থতা করতে রাজি নয় ভারত
104 Views No Comment
সকল আপডেট ফেসবুকে পেতে আমাদের অফিশিয়াল ফ্যান পেজে লাইক দিন

রোহিঙ্গা সংকটে মধ্যস্থতা করতে রাজি নয় ভারত

রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট সমাধানে
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে
মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে না
বলে জানিয়ে দিয়েছে ভারত।
রাখাইন সফরে বিদেশি কূটনীতিকদের
সঙ্গে ভারতীয় কূটনীতিকরা থাকবেন
কিনা- তা নিয়েও লুকোচুরি করছে
নয়াদিল্লি। তবে রাখাইনে হিন্দুদের হত্যার
তদন্ত দাবি করেছে তারা।
অন্যদিকে ভারতের প্রভাবশালী দুই হিন্দু
নেতা বলেছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীরা
তাদের জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি। জঙ্গি
সংগঠনের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের যোগাযোগ
রয়েছে বলেও দাবি নেতাদের। খবর
এনডিটিভি, আউটলুক ইন্ডিয়া ও স্পুটনিক
নিউজের।
রুশ বার্তা সংস্থা স্পুটনিক নিউজের খবরে
বলা হয়, ‘ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
(এমইএ) বলেছে যে রোহিঙ্গা শরণার্থী
সংকট সমাধানে বাংলাদেশ ও
মিয়ানমারের মধ্যে মধ্যস্থতা করার
পরিকল্পনা (ভারত) সরকারের নেই।’
তবে কে এ কথা বলেছেন- তা উল্লেখ করা
হয়নি প্রতিবেদনে।
অবশ্য প্রতিবেদনের বাকি অংশে এমইএর
মুখপাত্র রাবিশ কুমারের উদ্ধৃতি দেয়া
হয়েছে। কিন্তু তিনিই এ কথা বলেছেন
কিনা- তা স্পষ্ট নয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে
স্পষ্টভাবে বলা হয়, ব্যাপক সংখ্যায়
রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রবেশ করায়
নয়াদিল্লি শুধু বাংলাদেশকে মানবিক
ত্রাণ সাহায্য দেবে।
এমইএর এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অপারেশন
ইনসানিয়াত-এর আওতায় আমরা ত্রাণ
সহায়তা পাঠানোর দিকে মনোযোগ
দিচ্ছি। এরই মধ্যে ত্রাণের তিনটি চালান
পাঠানো হয়েছে।’
রাবিশ কুমারের বরাত দিয়ে স্পুটনিকের
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতীয়
ত্রাণসামগ্রীর কয়েক হাজার প্যাকেট
বিতরণ করা হয়েছে। বাস্তুচ্যুত মানুষের
প্রয়োজনীয় জিনিস এসব প্যাকেটে
রয়েছে।
মুখপাত্র বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের
মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। সেখানে
হাজার হাজার শরণার্থীর আগমনের কারণে
যে পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে তা
মোকাবেলায় আমরা সমন্বিতভাবে কাজ
করছি। আমরা বাংলাদেশকে সহায়তা
দানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ ইস্যু সামাল
দিতে পূর্ণ সহযোগিতা করে যাচ্ছি।’
রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা বন্ধের জন্য
মিয়ানমারকে চাপ দিতে ভারতের প্রতি
বাংলাদেশ অনুরোধ জানায়। বাংলাদেশ ও
মিয়ানমার উভয়ের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক
রয়েছে ভারতের। তবে রোহিঙ্গা সংকটে
ভারত কার্যত মিয়ানমার সরকারের পক্ষেই
অবস্থান নিয়েছে।
এদিকে, আগামী সপ্তাহে অশান্ত রাখাইন
রাজ্যে যে বিদেশি ক‚টনৈতিক প্রতিনিধি
দলের সফরের কথা রয়েছে সেখানে
ভারতীয় কোনো ক‚টনীতিক আছে কিনা তা
নিশ্চিত করতে রাজি হয়নি এমইএ।
রাবিশ কুমার বলেন, ‘আমি অবগত আছি যে
মিয়ানমার সরকার ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল
পরিদর্শনের জন্য বিদেশি ক‚টনীতিকদের
আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আমি জেনেছি
ভারতের বেশ কয়েকজন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব
এ টিমে থাকছেন। কিন্তু আমাদের দূতাবাস
থেকে কেউ অংশ নেবে কিনা তা আমি
নিশ্চিত নই।’
রোহিঙ্গাদের ওপর সরকারি বাহিনীর
নিপীড়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুমুল
সমালোচনা দেখা দেয়ার পর মিয়ানমার
সরকার সেখানকার পরিস্থিতি খতিয়ে
দেখতে বিভিন্ন দেশের ক‚টনীতিককে
আমন্ত্রণ জানিয়েছে। চলতি সপ্তাহে এ সফর
হওয়ার কথা রয়েছে।
‘হিন্দুদের গণকবর’ নিয়ে তদন্তের দাবি :
রাখাইনে হিন্দুদের কথিত গণকবরের
সন্ধানের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে
ভারত। পাশাপাশি মিয়ানমারের কাছে
দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি
জানিয়েছে দেশটি। সম্প্রতি মিয়ানমার
সেনাবাহিনী ‘হিন্দুদের গণকবর’ উদ্ধার করা
হয়েছে বলে দাবি করে এবং তাদের হত্যার
জন্য রোহিঙ্গা মুসলিম বিদ্রোহীদের
বিরুদ্ধে অভিযোগ করে।
এ খবরের সূত্র ধরে রাখাইন রাজ্যে
হিন্দুদের হত্যার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে
পদক্ষেপ নিতে মিয়ানমার সরকারকে
আহ্বান জানায় ভারত সরকার।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র
রাবিশ কুমার শুক্রবার বলেন, ‘মিয়ানমারের
স্টেট কাউন্সেলরের কার্যালয় কর্তৃক
প্রকাশিত বিবৃতি অনুসারে গণকবরে পাওয়া
সব লাশ হিন্দুদের। ভারত এ ব্যাপারে
গণমাধ্যমের রিপোর্ট দেখেছে এবং
মিয়ানমার সরকারের বিবৃতিও পড়েছে।
ভারত সব সময় সন্ত্রাসবাদের নিন্দা
জানায়।’
রাবিশ আরও বলেন, ‘কোনো ভাবেই ওই
সন্ত্রাসবাদকে বৈধতা দেয়া যায় না
যেখানে সংঘর্ষের সময় সাধারণ
নাগরিকদের টার্গেট করা হয়। ভারত আশা
করছে, মিয়ানমার সরকার সন্ত্রাসবাদীদের
সাজা দেবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের
সবাইকে যথাসম্ভব সাহায্য করবে যাতে
তাদের মধ্যে নিরাপত্তার অনুভ‚তি আসে
এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।’
রোহিঙ্গারা ‘জঙ্গি সমর্থক’ :
ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ও
ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির
(বিজেপি) মিত্র আরএসএসের প্রধান মোহন
ভগত বলেছেন, রোহিঙ্গা মুসলিমরা ভারতের
জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি। এ
মন্তব্যের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে
দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানকেই
সমর্থন করলেন।
মোহন ভগত আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বের
করে দেয়া হয়েছে। কারণ সন্ত্রাসী
গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের সংযোগ রয়েছে।’
জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো
যখন ভারতে আশ্রয় নেয়া ৪০ হাজার
রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে
নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরোধিতা
করছে, তখন মহারাষ্ট্র রাজ্যের নাগপুরে
শনিবার আরএসএসের এক সমাবেশে দেয়া
বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এদিকে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও
বিজেপি নেতা যোগী আদিত্যনাথ
বলেছেন, ভারতের রোহিঙ্গারা শরণার্থী
নয়, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। এএনআইকে
দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যখন
মিয়ানমারে বহু নির্দোষ হিন্দুকে
নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, তখন কিছু
লোক রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে উদ্বেগ
প্রকাশ করছে। তিনি আরও বলেন, ‘জানা
গেছে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে
রোহিঙ্গাদের সংযোগ আছে। ভারত সরকার
রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে ইতিমধ্যে স্পষ্ট
অবস্থান নিয়েছে।’

2 months ago (October 1, 2017) FavoriteLoadingAdd to favorites

About Author (24) 105 Views

administrator

This user may not interusted to share anything with others

Leave a Reply

You must be Logged in to post comment.

Related Posts


All Rights Reserved
© 2010 - 2017 Trick-Bd.CoM